এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

জীবন বৃত্তান্ত

এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ১৯৬৬ সালের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার হিংগাজিয়া গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মরহুম এম শামসুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং মাতা মেহেরুন নেছা। ৫ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। ভাই বোনেরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

শিক্ষা জীবনঃ ১৯৮১ সালে হিংগাজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে লেটার মার্কসহ এসএসসি, ১৯৮৩ সালে ঐতিহ্যবাহী সিলেট এমসি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করেন এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রসায়নে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে এলএলবি পাস করে আইন পেশায় সিলেট জেলা বারে যোগদান করেন এবং এখন পর্যন্ত তিনি এই পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে এই অঙ্গনেও রয়েছে তার বেশ সুনাম।

পারিবারিক জীবনঃ এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এর সহধর্মিনী শাহিমা খানম হেপী সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের কন্যা। বর্তমানে নগরীর একটি বেসরকারী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ছড়াকার, গল্পকার ও কবি হিসেবেও শাহিমা খানম হেপী বেশ পরিচিত। তিনি সিলেটের মহিলা অঙ্গনের সাহিত্য সংগঠন সৃজন সাহিত্য সংঘের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য হিসাবে রয়েছেন। এড. জুবায়ের ও শাহিমা খানম হেপী দম্পতির তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।

রাজনৈতিক জীবনঃ সিলেট এমসি কলেজে অধ্যয়নের সময় ১৯৮৭ সালে তিনি ছাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। এরপর সিলেট শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপালন করেন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি সিলেট মহানগরীর সেক্রেটারি ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে মহানগরী শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি একটি মিথ্যা মামলায় ৬ মাসের অধিক সময় কারান্তরীন ছিলেন। পরবর্তীতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও ছাত্র আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ঢাকায় দায়িত্বপালন করেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী, সহ-সভাপতি সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সভাপতি পদ থেকে বিদায় নেন এবং বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। ২০০২ সাল থেকে সিলেট মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বপালন করেন। ২০০৮ সালে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হন এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি উক্ত দায়িত্বপালন করেন। ২০২১ সালে তিনি সিলেট অঞ্চল পরিচালকের দায়িত্বপালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বহির্বিশ্ব সফরঃ যুক্তরাজ্য, জার্মানী, ফ্রান্স, ইতালী, নেদারল্যান্ড, হাঙ্গেরী, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, তুরস্ক, সৌদিআরব, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তানশ বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

সামাজিক কর্মকান্ড ও দায়িত্বঃ সিলেট বিভাগ আন্দোলন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আন্দোলনসহ সিলেটবাসীর ন্যায্য আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও অসহায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে ছিলেন সব সময়। বন্যার্তদের সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা, অসহায় দরিদ্র নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ সামাজিক কাজে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

টুইটার